মাগুরাতে ভালো কাজের নাগরিক অনুশীলন
স্বীকৃতি দিবে মাগুরা জেলা প্রশাসন
মো: রনি আহমেদ রাজু, ক্রাইম রিপোর্টার: এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাগুরার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু নাসের বেগ ১৮ জন ব্যক্তি ও সংগঠনকে তাদের ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা প্রদান করেন। আজ রোববার ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ জেলা প্রশাসকের চাঁদের হাটের কনফারেন্স রুমে,জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু নাসের বেগের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ খায়রুল আলম সেখ, এছাড়াও চাঁদের হাটের কনফারেন্স রুমে উপস্থিত ছিলেন, মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার মোশিউদ্দৌলা রেজা বিপিএম,
সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ পরিচালক জাহিদুল আলম সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা বৃন্দগন। ভালো কাজের নাগরিক স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা পেয়েছেন ১. ডা: সুশান্ত কুমার বিশ্বাস, ১০ম বিসিএস এ ডেন্টাল সার্জন হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ১৯৮৪ সালে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর বিভিন্ন হাসপাতালে সুনামের সাথে চাকুরি জীবন সম্পন্ন করে, মাগুরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে তিনি নিজের আগ্রহে এবং তাঁর সহধর্মিনী, জনাব অনিমা রায় এর ঐকান্তিক উৎসাহে সপ্তাহে একদিন নিজ গ্রামে ১০০-২০০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং সাধ্যমত প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রদান করছেন। এভাবে তিনি অত্র অঞ্চলে মানবতার ফেরিওয়ালা ডাক্তার নামে সুপরিচিত। তাছাড়া শত ব্যস্ততার মাঝেও কৃষির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকে তাঁর, পৈতৃক জমিতে নিজ তত্ত্বাবধানে নানান সবজি ও ফল-ফসল চাষ করেন। একইসাথে তাঁর একটি দেশি-বিদেশি গরুর খামার আছে।২. পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে একটি তারুণ্যনির্ভর ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে ‘বিডি ক্লিন মাগুরা’ পরিচ্ছন্ন মাগুরা জেলা গড়তে ২০২১ সাল থেকে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ‘বিডি ক্লিন মাগুরা’ প্রতি সপ্তাহে একদিন জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যত্র-তত্র পড়ে থাকা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে, এবং লোকজনকে যেখানে-সেখানে ময়লা আবর্জনা না ফেলার জন্য সচেতন করে এবং জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। গত মহান বিজয় দিবস – ২০২৩ উপলক্ষ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা নিবেদনে, মাগুরা পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডে একটি ময়লার ভাগাড় পরিচ্ছন্ন করে ফুল বাগানে রূপান্তর করেন তারা।
৩. গ্রীণ ভয়েস মাগুরা এর উদ্যোগে টেকসই পরিবেশ উন্নয়ন ও বাস্তুসংস্থান সংরক্ষণের জন্য বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি আত্মরক্ষা ও মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধি প্রশিক্ষণ, শহরে বিভিন্ন ধরণের সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম, মাস্ক বিতরণ ও অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী, এক টাকায় ইফতার বিতরণ কর্মসূচী, বিভিন্ন সামাজিক দিবস উদযাপন, অসহায় পরিবারের জন্য খাদ্যশস্য সহায়তা, ধর্মীয় উৎসবে অসহায় পরিবারের জন্য নতুন পোশাক বিতরণ ইত্যাদি কর্মকান্ড পরিচালিত হয়ে থাকে। এছাড়া অতিমারী করোনাকালীন টিকা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনলাইনে ফ্রি আবেদন করতে প্রতিষ্ঠানটি সাহায্য করেছে।
৪. পল্লী চিকিৎসক কাজী তাসুকুজ্জামান, চিকিৎসা পেশায় সম্পৃক্ত থেকেও মাগুরা জেলার ইতিহাস সংরক্ষণে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। শুধু ইতিহাস সংরক্ষণ ও চিকিৎসা সেবাই নয়, তিনি মানবিক আলো ছড়াচ্ছেন সমাজসেবার ক্ষেত্রেও। যেসব সমাজহিতৈষী গুণীজন সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, ধর্ম ও রাজনীতিতে বিশেষ অবদান রেখে মাগুরা তথা জাতিকে সমৃদ্ধশালী করেছেন তাঁদের সৃষ্টিশীলতা, গবেষণা ও সাফল্যগাঁথা ‘মাগুরার গৌরবময় ইতিহাস’ গ্রন্থে তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন আগামী প্রজন্মকে আলোকিত করার সদিচ্ছায়। বর্তমানে তিনি ‘কাজী আব্দুল হক মেমোরিয়াল কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এবং তাঁর সহধর্মিনী ‘মাগুরা জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র’ ও মাগুরা আর্কাইভ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
৫. তালযন্ত্র শিল্পী জনাব জগদীশ অধিকারী তবলায় প্রথম হাতেখড়ি নেন সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ বাবু ধীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (ভোলা বাবু) এর কাছে। শিল্পী বাবু জগদীশ অধিকারী ১৯৮৩ সালে মাগুরা জেলায় তবলা প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকার করেন। তিনি ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত মাগুরা জেলা শিল্পকলা একাডেমীর প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ গুণী শিল্পী ঊনচল্লিশ বছর ধরে মাগুরা উদীচী, জেলা শিশু একাডেমীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করে যাচ্ছেন। তালযন্ত্রের পাশাপাশি চারু ও কারু শিল্পী হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলায় ভাস্কর্য নির্মাণ করে যাচ্ছেন। তিনি এমন একজন প্রতিভাবান কারু শিল্পী যিনি মাত্র এক ঘন্টায় যেকোন ভাস্কর্য তৈরী করতে পারেন।
৬. জনাব রুমানা একজন কেঁচো সার উৎপাদনকারী উদ্যোক্তা। উপজেলা কৃষি অফিস, শ্রীপুর, মাগুরা তাঁকে সর্বপ্রথম ২০০৯ সালে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে একটি কৃষক প্রশিক্ষণের জন্য মনোনয়ন করে। প্রদর্শনী হতে তিনি লাভবান হওয়ায় ব্যক্তিগতভাবে কেঁচো সার উৎপাদন চালিয়ে যান এবং প্রতিবেশীদেরকে উদ্বুদ্ধ করে ৩০ (ত্রিশ) জন নারী কেঁচো সার উৎপাদনকারী তৈরী করেন। তাঁর এ কাজে উৎসাহ দেয়ার জন্য উপজেলা কৃষি অফিস, শ্রীপুর, মাগুরা কর্তৃক অনাবাদী পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালে পুনরায় “কমিউনিটি বেইজড ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন” নামক আরোও একটি প্রদর্শনী তৈরি করতে দেয়া হয় এবং উপকরণ হিসেবে একটি কেঁচো সেপারেটর মেশিন, একটি প্যাকেটিং মেশিন ও একটি ওজন মেশিন দেয়া হয়। যার মাধ্যমে ৩০ (ত্রিশ) জন উপকারভোগী নারী সদস্যকে নিয়ে কেঁচো সার উৎপাদনকারী একটি সমিতি গঠন করা হয়। বর্তমানে তিনি বছরে প্রায় ৩,৬০,০০০ (তিন লক্ষ ষাট হাজার) টাকা আয় করছেন।
৭. ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মাগুরা বৈশ্বিক অতিমারী করোনা চলাকাল